জোনাথন মেয়ার
অবস্থান
লন্ডন, যুক্তরাজ্যSpecialization
সেতারজোনাথন মেয়ার পাঁচ বছর বয়সে বাজানো শুরু করেন: দাদু অ্যালবার্ট হেপ্টনের কাছে বেহালা, জেমস মেথুয়েন-ক্যাম্পবেলের কাছে পিয়ানো এবং বাবার কাছে সুররচনা শেখেন। ষোলো বছর বয়সে সেনিয়া ঘরানার শিষ্য, পাশ্চাত্য সেতারবাদক ক্লেম আলফোর্ডের কাছে সেতার শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে বার্মিংহাম কনজারভেটোয়ার থেকে বি.মিউজ় (সম্মান) ডিগ্রি নেন, সেখানে অ্যান্ড্রু ডাউনসের কাছে সুররচনা এবং সেতারবাদন শেখেন। এরপর ওস্তাদ ওয়াজাহাত খানের কাছে ইমদাদখানি ঘরানায় এবং পণ্ডিত সুব্রত রায়চৌধুরীর কাছে সেনিয়া বীণকার শৈলীতে নিজের কৌশল মেজে নেন। এখন তিনি ওস্তাদ ইরফান মুহাম্মদ খানের কাছে লখনউ-শাহজাহানপুর ঘরানার উচ্চতর তালিম নিচ্ছেন এবং ওস্তাদ ইউসুফ আলী খানের কাছে তাল তালিম শিখছেন।
About জোনাথন মেয়ার
সেতারবাদক ও সুরকার জোনাথন মেয়ারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু প্রজন্মের। তাঁর বাবা জন মেয়ারও সুরকার ছিলেন, পাশ্চাত্য ধ্রুপদী বেহালা বাজাতেন এবং কলকাতায় জন্মেছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ভারতে নিজের পৈতৃক পরিবারের উপস্থিতির সূত্র খুঁজে বার করেছেন জোনাথন। তিনি ক্রিস্টোফার মেয়ারের সরাসরি বংশধর, যিনি ১৭৮০-এর দশকে ফার্সি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতেন। বলা যেতে পারে, গত তিনশো বছরে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে যে আদানপ্রদান ঘটেছে, জোনাথনের পূর্বপুরুষেরা তারই প্রতিনিধি।
লন্ডনের বাড়িতে (তাঁর বাবা ১৯৫২ সালে রয়্যাল অ্যাকাডেমি অফ মিউজ়িকে পড়তে ব্রিটেনে আসেন) সঙ্গীত ছিল সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটার কাজ। তাঁর কথায়, ‘দিনের কাজ সেরে বিশ্রাম বা সবাই মিলে উপভোগ করার কিছু নয়, কারণ ওটাই ছিল কাজ’। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন পূর্ণকালীন সঙ্গীতশিল্পী: মা পিয়ানো শিখেছিলেন এবং একাধিক অর্কেস্ট্রায় বেহালা বাজাতেন, আর বাবা লন্ডন ফিলহারমনিক-সহ নানা অর্কেস্ট্রায় প্রথম বেহালাবাদক ছিলেন। জোনাথনের মনে আছে, বাবা সারাক্ষণ স্কোর লেখায় ডুবে থাকতেন। প্রসঙ্গত, জন মেয়ার রাম গোপালের জন্য সুর করেছিলেন, আর গোপালই জনের ভিতর থেকে ‘ভারতীয়তা’ টেনে বার করে তাঁকে তাঁর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান উৎসের কথা মনে করিয়ে দেন; এতটাই যে গোপালের সঙ্গে আলাপের পর জন মেয়ার সবসময় প্যান্টের উপর কুর্তা পরতেন। জন মেয়ারের সবচেয়ে পরিচিত অ্যালবামগুলির একটি ইন্দো-জ্যাজ ফিউশনস হলেও তিনি আসলে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন নিজের ‘সিম্ফোনিক কাজ’-এর জন্য। বাবাকে রচনার মধ্যে ডুবে থাকতে দেখে দেখেই ছোট থেকে জোনাথনের মধ্যে সুর রচনার টান তৈরি হয়।
তিনি পাঁচ বছর বয়সে বাজানো শুরু করেন: দাদু অ্যালবার্ট হেপ্টনের কাছে বেহালা, জেমস মেথুয়েন-ক্যাম্পবেলের কাছে পিয়ানো এবং বাবার কাছে সুররচনা শেখেন। ষোলো বছর বয়সে সেনিয়া ঘরানার শিষ্য, পাশ্চাত্য সেতারবাদক ক্লেম আলফোর্ডের কাছে সেতার শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে বার্মিংহাম কনজারভেটোয়ার থেকে বি.মিউজ় (সম্মান) ডিগ্রি নেন, সেখানে অ্যান্ড্রু ডাউনসের কাছে সুররচনা এবং সেতারবাদন শেখেন। এরপর ওস্তাদ ওয়াজাহাত খানের কাছে ইমদাদখানি ঘরানায় এবং পণ্ডিত সুব্রত রায়চৌধুরীর কাছে সেনিয়া বীণকার শৈলীতে নিজের কৌশল মেজে নেন। এখন তিনি ওস্তাদ ইরফান মুহাম্মদ খানের কাছে লখনউ-শাহজাহানপুর ঘরানার উচ্চতর তালিম নিচ্ছেন এবং ওস্তাদ ইউসুফ আলী খানের কাছে তাল তালিম শিখছেন।
সেতারের তালিমের পাশাপাশি জোনাথন বার্মিংহাম কনজারভেটোয়ারে অ্যান্ড্রু ডাউনেসের কাছে সুররচনা পড়ে ব্যাচেলর অফ মিউজ়িক (সম্মান) ডিগ্রি পান। স্বরলিপি পড়তে ও লিখতে পারার দক্ষতা, তার সঙ্গে পাশ্চাত্য ও ভারতীয় দুই সঙ্গীত ঐতিহ্যের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, জোনাথনকে সুর রচনা এবং স্বরলিপি তৈরির ক্ষেত্রে এক অনন্য জায়গায় বসিয়েছে।
পাশ্চাত্য স্বরলিপিতে সড়গড় জোনাথন ভারতীয় ধ্রুপদী থেকে জ্যাজ়, ইলেকট্রনিক ও চলচ্চিত্রসঙ্গীত পর্যন্ত নানা ধারায় কাজ করেছেন, মঞ্চ ভাগ করেছেন অনুপ জলোটা, পণ্ডিত দেবাশিস চক্রবর্তী, ওস্তাদ আকরাম খান, ক্যাথরিন টিকেল, কুলজিৎ ভামরা, লন্ডন ফিলহারমনিক, বিবিসি কনসার্ট অর্কেস্ট্রা এবং কালা ফেস্টিভ্যালের সঙ্গে। সুরকার হিসেবে লিখেছেন জ্যাজ় এনসেম্বল, নৃত্য প্রযোজনা ও সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার জন্য; তাঁর কাজের বরাত দিয়েছে LPO, Pilsen Philharmonic এবং তাঁর বাবার ইন্দো-জ্যাজ ফিউশনস। ZerOclassiKal-এর সঙ্গে তিনি আর্টস কাউন্সিল-সমর্থিত তিনটি প্রকল্প Perseverance, Altered Boundaries ও Raga Music-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর আমিনা খৈয়াম ডান্স কোম্পানির জন্য বোরোদিনের নক্টার্ন সেতার, সরোদ, চেলো ও তবলার জন্য সাজিয়েছেন।
জোনাথনের পেশাজীবনকে বলা চলে ‘পোর্টফোলিও ক্যারিয়ার’: তিনি সেশন মিউজিশিয়ান, তিনি সেই সুরকার যাঁর রচনা বিশ্বের সেরা কিছু অর্কেস্ট্রা বাজায়, তিনি কনসার্ট শিল্পী, তিনি পথপ্রদর্শক, আবার বিয়ের অনুষ্ঠানেও বাজান (এক ভাগ্নীর বিয়েতে যেদিন তাঁর সঙ্গে দেখা, সেদিন তাঁর তিনটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল!)। তিনি ফার্স্ট হ্যান্ড রেকর্ডসের সহ-পরিচালকও, যারা ধ্রুপদী সঙ্গীত এবং তাঁর বাবা-সহ আরও কয়েকজন গুরুর অ্যালবাম প্রকাশ করে। আসল কথা, জোনাথন পূর্ণকালীন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই সংসার চালিয়েছেন এবং নিজের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। বেঁচে থাকা, কাজ করা আর সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার এর চেয়ে ভালো পথ ভাবা কঠিন।