শাকির খাঁ
অবস্থান
নতুন দিল্লি, ভারতSpecialization
সেতার • Etawah GharanaAbout শাকির খাঁ
শাকির খাঁ সেই সিতার-ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করেন যা তাঁর পরিবার আট পুরুষ ধরে লালন ও পরিমার্জন করে এসেছে। তিনি এতওয়া ঘরানার সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি এবং পদ্মশ্রী উস্তাদ শাহিদ পারভেজ খাঁর সুযোগ্য পুত্র ও শিষ্য।
এই বংশপরম্পরা ছাড়া শাকির খাঁকে বোঝা সম্ভব নয়।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে উস্তাদ সাহাবদাদ খাঁ এতওয়া ঘরানার ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর পুত্র উস্তাদ ইমদাদ খাঁ হিন্দুস্তানি বাদ্যসঙ্গীতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন — খেয়াল গায়কীর অলঙ্করণ, তান, লয়ের বিভাজন এবং স্বর-লয়ের কথোপকথনকে তিনি প্রথমবার সিতার-বাদনে প্রয়োগ করেন। সেনিয়া বাজের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই ইমদাদখানি বাজ আজ ঘরানার পরিচয়চিহ্ন। উস্তাদ এনায়েত খাঁ সিতারের কাঠামোয় এমন পরিবর্তন আনেন যা আজও প্রচলিত। উস্তাদ ওয়াহিদ খাঁ সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পাওয়া প্রথম শিল্পী হন। আর শাকিরের পিতৃপ্রতিম জ্যেষ্ঠ উস্তাদ বিলায়েত খাঁ — 'আফতাব-এ-সিতার' — এই বাদ্যযন্ত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।
উস্তাদ আজিজ খাঁ তাঁর সমস্ত সঙ্গীত-জ্ঞান একটি লক্ষ্যে নিবেদন করেছিলেন: পুত্র শাহিদ পারভেজকে তৈরি করা। সেই তালিম অত্যন্ত কঠোর ছিল — খাওয়া ভুলেও তিনি শেখাতেন। সেই সাধনা থেকেই বেরিয়ে এলেন পদ্মশ্রী উস্তাদ শাহিদ পারভেজ খাঁ, যিনি ২০০৬ সালে সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পান এবং আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সিতার-বাদকদের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। তিনি পুত্র শাকিরকেও সেইভাবেই তৈরি করেছেন।
মাত্র এগারো বছর বয়সে শাকির প্রথম মঞ্চে বাজান। দীর্ঘ রিয়াজ, পিতার কঠোর তত্ত্বাবধান এবং অজস্র পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিনি ঘরানার সেই স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেছেন: সুরের সূক্ষ্মতা, লয়ের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ এবং রাগের ভেতর গায়কের মতো ভাব উৎপন্ন করার ক্ষমতা। গায়কী অঙ্গে তার থেকে সেই সব বের করতে হয় যা একজন গায়ক নিঃশ্বাসে করেন। শাকির শুধু একটি বাজ শেখেননি — তিনি একটি সঙ্গীত-দর্শন আত্মস্থ করেছেন যা ছয় পুরুষ আগে থেকে চলে আসছে।
এই সাধনার ফলস্বরূপ তিনি ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চগুলোতে বাজিয়েছেন। ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলন, সওয়াই গন্ধর্ব মহোৎসব, সপ্তক, তানসেন সঙ্গীত সমারোহ, শংকরলাল উৎসব, বম্বে ফেস্টিভ্যাল — সব প্রধান আসরেই শাকির খাঁর উপস্থিতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপে পরিবেশন করেছেন: ২০০৮ সালে পোল্যান্ডের উডস্টক ফেস্টিভ্যালে, ২০২৩ সালে লেস্টারে দরবারের 'মিউজিক অব ইন্ডিয়া' শৃঙ্খলায়, এবং টরন্টোর আগা খান মিউজিয়ামেও।
শ্রোতা ও সমালোচকরা বারবার দুটো কথা বলেছেন: বাদনের পকড় এবং মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি। পিতা-পুত্রের জুগলবন্দীর আলাদা খ্যাতি আছে — যাঁরা শোনেন তাঁরা বলেন সেখানে একটা বিশেষ বিদ্যুৎ থাকে। শাকির জার্মানির 'তালিজম' এবং স্পেনের 'হিউম্যান এভোলিউশন'-এর সঙ্গে ফিউশনেও কাজ করেছেন। গায়কী অঙ্গের নমনীয়তা যেকোনো মাধ্যমে সহজেই মিলে যায়।
২০২৩ সালে সংগীত নাটক আকাদেমি তাঁকে উস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁ যুব পুরস্কারে ভূষিত করে। এর আগে তিনি ভারত সরকারের মেরিট স্কলারশিপ, আকাশবাণী সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার, বিদ্যাসাগর পুরস্কার (২০০৮), গুরুবর্য বি.এস. উপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার (২০১৩) এবং শ্রী রামমূর্তি প্রতিভা অলঙ্করণ (২০২১) পেয়েছেন।
নানা উস্তাদ আজিজ খাঁর স্মৃতিতে শাকির 'স্বরসেতু' প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সারা বিশ্বের শিষ্যদের রাগের গভীর বোধ এবং বাদনের সূক্ষ্মতা শেখান। স্কাইপ, জুম ও গুগল মিটে অনলাইন ক্লাস উপলব্ধ। যে পরম্পরা তিনি পেয়েছেন, তা ছড়িয়ে দিতে চান।
কলাসুধা শাকির খাঁর সঙ্গে কাজ করতে এবং তাঁর সঙ্গীত ও শিক্ষাকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে গর্বিত। আমাদের মঞ্চে তিনি অন্তরঙ্গ বৈঠকে বাজান এবং কর্মশালার মাধ্যমে সব স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছে এতওয়া পরম্পরা নিয়ে যান।
শাকির খাঁর কর্মশালা ও অনলাইন কোর্স কলাসুধা মঞ্চে পাওয়া যাচ্ছে। আসন্ন পরিবেশনা ও বৈঠক সভার তথ্যও এখানেই মিলবে। শুনতে আসুন বা শিখতে — এতওয়া পরম্পরার সরাসরি পথ এখন আপনার সামনে।