আগ্রা ঘরানা হিন্দুস্তানি কণ্ঠসংগীতের একটি বংশানুক্রমিক ঘরানা, যার নাম এসেছে আগ্রা শহর থেকে। ১৯ শতকে গড়ে ওঠা একটি খেয়াল শৈলীর জন্য এর পরিচিতি। এই ঘরানার শিল্পীরা খেয়ালের পাশাপাশি ধ্রুপদ ও ধামার ধরে রেখেছেন, আর ঠুমরী, টপ্পা, তারানা ও হোরিও গেয়ে থাকেন। বিবাহসূত্রে আগ্রার পরিবার যুক্ত হয় মেহবুব খানের আতরৌলি পরিবারের সঙ্গে, যিনি দরস পিয়া নামে রচনা করতেন, আর এই যুক্ত ধারাটি আগ্রা-আতরৌলি ঘরানা নামেও পরিচিত।
পারিবারিক ঐতিহ্য এই ধারাকে নিয়ে যায় পুরোনো ধ্রুপদ শৈলীগুলির একটি, নৌহার বাণী পর্যন্ত, এবং নায়ক গোপাল পর্যন্ত, যাঁকে একটি মৌখিক ইতিহাস আলাউদ্দিন খলজির রাজত্বকালের সঙ্গে যুক্ত করে। একই ঐতিহ্য আকবরের দরবারের ধ্রুপদ গায়ক হাজি সুজান খানকে পূর্বপুরুষদের মধ্যে গণ্য করে, যদিও একটি বংশতালিকা এই উত্তরাধিকার দেখায় তাঁর ভাই বিচিত্র সিংয়ের মধ্য দিয়ে। ১৮ শতকে সরস রঙ্গ নামে পরিচিত দায়েম খান এবং শ্যাম রঙ্গ নামে পরিচিত তাঁর পুত্র কায়েম খান এই ধারায় ধ্রুপদ ও ধামার গাইতেন, আর কয়েকজন লেখক সরস রঙ্গকে ঘরানার প্রবর্তক বলেন। কায়েম খানের পুত্র ঘগ্গে খুদা বখশ (আনুমানিক ১৭৯০-১৮৮০) পরিবারে খেয়াল নিয়ে আসেন, আর খসখসে গলার জন্য তিনি ঘগ্গে নাম পান। তিনি গোয়ালিয়রে নাথন পীর বখশের কাছে খেয়াল শেখেন, কয়েকটি বিবরণ অনুযায়ী বারো বছর, একটি অনুযায়ী চোদ্দো বছর। তারপর তিনি পরিবারের ধ্রুপদ-তালিমের সঙ্গে গোয়ালিয়রের খেয়াল মেলান, আর সেই মিশ্রণ হয়ে ওঠে ঘরানার গায়নশৈলী আগ্রা গায়কি।
আগ্রার শিল্পীরা প্রায়ই খেয়াল শুরু করেন নোম-তোম আলাপ দিয়ে, যা ধ্রুপদ ধাঁচের এক সূচনা এবং খেয়াল ঘরানাগুলির মধ্যে বিরল। কণ্ঠ ভরাট ও খোলা গলার, তার ভার নিচের সপ্তকে। শিল্পীরা বন্দিশ (নির্দিষ্ট রচনা) পুরোটা পরিবেশন করেন, তারপর লয়কারি দিয়ে তার বিস্তার করেন, অর্থাৎ তালের (মাত্রার চক্রের) সঙ্গে লয়ের খেলা। এর মধ্যে আছে ধামার থেকে নেওয়া বোলবাঁট, যা গানের কথাকে মাত্রা জুড়ে ভাগ করে, আর কথার ওপর গাওয়া দ্রুত তান, যাকে বলে বোলতান।
খুদা বখশ তালিম দেন তাঁর ভাইপো বা ভাগ্নে শের খানকে এবং নিজের পুত্র গুলাম আব্বাস খান ও কাল্লান খানকে, যাঁরা এই শৈলীর প্রধান বাহক হয়ে ওঠেন। পরিবারের বাইরের শিব দীনকেও তিনি শেখান। অনেকের অনুমান অনুযায়ী শের খান আনুমানিক ১৮৪০ সালে এই শৈলী বোম্বাইয়ে নিয়ে যান, আর শহরটি ঘরানার একটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গুলাম আব্বাস খানের মেয়ের ঘরের নাতি ফৈয়াজ খান (১৮৮৬-১৯৫০) প্রেম পিয়া নামে রচনা করতেন এবং ২০ শতকের সবচেয়ে পরিচিত আগ্রা-শিল্পী হয়ে ওঠেন। শের খানের পুত্র নত্থন খান ভাস্করবুয়া বাখলেকে শেখান, আর নত্থন খানের পুত্র বিলায়েত হুসেন খান, যিনি প্রাণ পিয়া নামে রচনা করতেন, ১৯৩৬ সালে বোম্বাইয়ে সংগীত প্রসারক মণ্ডল প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রধান শিল্পীরা
- ঘগ্গে খুদা বখশ, আনুমানিক ১৭৯০-১৮৮০, আগ্রা ধারায় খেয়াল নিয়ে আসার কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাঁকে
- শের খান, খুদা বখশের ভাইপো বা ভাগ্নে এবং শিষ্য, এই শৈলী বোম্বাইয়ে নিয়ে যান
- নত্থন খান, ১৮৪০-১৯০১, শের খানের পুত্র এবং ভাস্করবুয়া বাখলের গুরু
- জোহরাবাই আগ্রেওয়ালি, ১৮৬৮-১৯১৩, কণ্ঠশিল্পী, যাঁর রেকর্ডিং আগ্রা গায়কির প্রাচীনতম রেকর্ডিংগুলির অন্যতম
- ফৈয়াজ খান, ১৮৮৬-১৯৫০ (একটি সূত্রে ১৮৮১), কণ্ঠশিল্পী এবং প্রেম পিয়া নামে রচয়িতা, বরোদার দরবারি শিল্পী
- বিলায়েত হুসেন খান, ১৮৯৫-১৯৬২ (একটি সূত্রে ১৮৯২), গুরু এবং প্রাণ পিয়া নামে রচয়িতা
- খাদিম হুসেন খান, ১৯০৭-১৯৯৩ (একটি সূত্রে ১৯০৫), কণ্ঠশিল্পী এবং সাজন পিয়া নামে রচয়িতা
সূত্র
- Amrita Sarkhel, Development and characteristics of Agra-Atrauli Gharana of Khayal, Naad-Nartan Journal of Dance and Music (2020)
- N. Jayavanth Rao, আগ্রা ঘরানা নিয়ে দুটি প্রবন্ধ, Sahapedia (তারিখ নেই)
- Malini Nair, After 90 years, Agra gharana has moved out of its home in Mumbai, Scroll.in (2025)
- SwarGanga Music Foundation, Agra gharana (তারিখ নেই)