রেকেশ চৌহান

অবস্থান

লন্ডন, যুক্তরাজ্য

বিশেষত্ব

Piano
রেকেশ চৌহান বহু পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ ভারতীয় পিয়ানোশিল্পী ও সুরকার, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শাস্ত্রীয় পরম্পরাকে নতুনভাবে মেলানোর জন্য পরিচিত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রথম পাঠ তিনি পান সঙ্গীতশিল্পী বাবার কাছে, আর পাশ্চাত্য সুররচনার প্রথাগত শিক্ষা নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। এই দুই প্রভাব মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব, ভাবময় এক সঙ্গীতভাষা। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতিতে ফার্স্ট ক্লাস অনার্স ডিগ্রি পেয়েছেন। ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম Beyond Roots-এ তবলায় ছিলেন কৌশিক সেন জি, আর অ্যালবামটি জাতীয় রেডিওর নজর কাড়ে। তারপর থেকে গভীরতা ও নতুনত্বের সুরকার হিসেবে রেকেশের সুনাম বেড়েই চলেছে।

রেকেশ চৌহান সম্পর্কে

রেকেশ চৌহান সারা বিশ্বে বাজান। রয়্যাল অ্যালবার্ট হল, বার্মিংহাম সিম্ফনি হল, সাউথব্যাঙ্ক সেন্টার (কুইন এলিজাবেথ হল ও রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হল), ব্রিজওয়াটার হল, ক্যাডোগান হল এবং লন্ডনের ভি অ্যান্ড এ মিউজিয়ামে তাঁর অনুষ্ঠান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

চৌহান বহু পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৮ সালে লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ হলে তাঁকে এনআইএএ ইয়ং মিউজিশিয়ান অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে অ্যালামনাস অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত করে, আর তিনি ইস্টার্ন ইলেকট্রনিকা প্রাইজও পেয়েছেন।

ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাস্ট নামের দাতব্য সংস্থার সাহায্যার্থে করা তাঁর পুরস্কারজয়ী শিল্প-প্রযোজনার জন্য ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রশংসা করেছেন। ২০২২ সালে তাঁকে ফিউচার ট্যালেন্টের অ্যাম্বাসাডর করা হয়। এই সঙ্গীত-দাতব্য সংস্থাটি গড়েছিলেন ডাচেস অফ কেন্ট ও নিকোলাস রবিনসন।

সঙ্গীতে অবদান এবং ব্রিটিশ এশীয় সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরব হওয়ার স্বীকৃতিতে, বিশেষ করে অতিমারির কঠিন সময়ে, রেকেশ ২০২৩ সালের কিংস বার্থডে অনার্সে ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল পান। ফিউচার ট্যালেন্টের অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তিনি সুবিধাবঞ্চিত তরুণ সঙ্গীতশিল্পীদের পাশে দাঁড়ান, আর শিল্প ও দাতব্য কাজের জন্য ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাও পেয়েছেন।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতি মেলানোর ক্ষমতা তাঁকে এনে দিয়েছে প্রচুর স্বীকৃতি আর নানা নামী মঞ্চের আমন্ত্রণ: রয়্যাল অ্যালবার্ট হল, বার্মিংহামের সিম্ফনি হল, সাউথব্যাঙ্ক সেন্টার (কুইন এলিজাবেথ হল ও রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হল), ব্রিজওয়াটার হল, ক্যাডোগান হল ও লন্ডনের ভি অ্যান্ড এ মিউজিয়াম তার কয়েকটি মাত্র। সঙ্গীতজীবনের শুরুতে তিনি মোবো পুরস্কারজয়ী জ্যাজ পিয়ানোশিল্পী জ়ো রহমানের মতো শিল্পীদের সঙ্গে বাজাতেন, পরে রনি স্কটস-এ বাজান মার্কারি প্রাইজজয়ী তালভিন সিং ওবিই-র সঙ্গে। কয়েক বছরের মধ্যেই বিবিসির জাতীয় রেডিও তাঁকে ‘ইন্ট্রোডিউসিং’ শিল্পী হিসেবে তুলে ধরে, নিজের দল নিয়ে তিনি এরিনায় ৬০,০০০-এরও বেশি মানুষের সামনে বাজান এবং ইস্টার্ন ইলেকট্রনিকা প্রাইজ জেতেন। কুড়ি বছর বয়সের আগেই এত কিছু করে ফেলা এই তরুণ শিল্পীর আজ এত চাহিদা থাকাটা আশ্চর্যের নয়।

২০১৮ সালে প্রকাশিত 'Avartan' আইটিউনস ওয়ার্ল্ড মিউজিক চার্টে তাঁকে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে দেয়। ২০১৫ সালে মিলাপফেস্ট থেকে বেরোনো তাঁর প্রথম অ্যালবাম 'Beyond Roots' সমালোচকদের প্রশংসা পায়; ট্যাবলয়েড কাগজ থেকে প্রাইম-টাইম রেডিও, সর্বত্র তার সুখ্যাতি হয়। অ্যালবামটি আসে দেশজোড়া এক হাউসফুল সফরের পরে, যে সফর শেষ হয়েছিল বিবিসি রেডিও লন্ডনের জন্য একটি বিশেষ লাইভ সেশনে। Beyond Roots-এ আছেন বিবিসি সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার খ্যাতনামা বেহালাশিল্পী জন গার্নার, যিনি চৌহানের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেন। কলাসুধার সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি নানা প্রকল্পে পণ্ডিত অজয় প্রসন্ন ও শাহবাজ হুসেনের সঙ্গে বাজিয়েছেন।