সতবিন্দর পাল সিং
অবস্থান
লন্ডন, যুক্তরাজ্যবিশেষত্ব
Sarangi • Senia-Maihar Gharanaসতবিন্দর পাল সিং সম্পর্কে
সতবিন্দর পাল সিং পাঞ্জাবের মোগার মানুষ, এখন লন্ডনে থাকেন এবং সারেঙ্গি বাজান। তাঁর জন্ম ১২ জুলাই ১৯৯৩। বাবা উস্তাদ শমিন্দর পাল সিং আকাশবাণী জলন্ধরের টপ গ্রেড স্টাফ আর্টিস্ট, এবং আকাশবাণীর ইতিহাসে এই স্তরে পৌঁছনো প্রথম শিখ সারেঙ্গিশিল্পী। শমিন্দর পাল সিং তালিম নিয়েছেন পদ্মভূষণ উস্তাদ সাবরি খানের কাছে। ঠাকুরদা প্রয়াত সর্দার হরচাঁদ সিং ছিলেন কীর্তনকার ও ব্যাঞ্জোবাদক; পাঞ্জাবের শাস্ত্রীয় ও ভক্তিসঙ্গীত, দুই ধারাই তিনি একই পরিবারে ধরে রেখেছিলেন।
১৯৯৮ সালে, পাঁচ বছর বয়সে, জলন্ধরের বাবা হরিবল্লভ সঙ্গীত সম্মেলনে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সতবিন্দর প্রথম মঞ্চে ওঠেন। ১১ বছর বয়সে বাবার কাছে সারেঙ্গি শিখতে শুরু করেন, আর ২০১২ সালে দিল্লিতে দাদাগুরু পদ্মভূষণ উস্তাদ সাবরি খানের কাছে তালিম নেন এবং তাঁর সঙ্গে মঞ্চেও বাজান। তিনি পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত রাম নারায়ণ এবং পণ্ডিত হর্ষ নারায়ণের কাছেও শিখেছেন। শিখ পন্থে সতবিন্দর ও তাঁর বাবাই প্রথম পিতা-পুত্র, যাঁরা দুজনেই সারেঙ্গিতে আকাশবাণীর টপ গ্রেড শিল্পী।
শাস্ত্রীয় সারেঙ্গির পাশাপাশি তিনি সারিন্দা, এসরাজ, দিলরুবা ও তাউস বাজান। শিখ সঙ্গীতের এই যন্ত্রগুলি তাঁর পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে এনেছে। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও তিনি রেকর্ড করেছেন, প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি গান "Ruh Lai Gya" ও "Shaman Pai Gaiyan"। নেটফ্লিক্সের সিরিজ CAT এবং Kaalakaandi, Mastaney, Sarvaann ও The Journey of Punjab (২০১৬) ছবির সাউন্ডট্র্যাকে তাঁর সারেঙ্গি শোনা যায়।
তাঁর পুরস্কারের মধ্যে আছে আকাশবাণী সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, আকাশবাণীর এ-গ্রেড স্বীকৃতি, বাবা হরিবল্লভ ও গুরমত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক এবং জাতীয় যুব উৎসবে (এআইইউ) পরপর পাঁচবার স্বর্ণপদক। সান ফ্রান্সিসকোর আইসিএমএ তাঁকে অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। তিনি ভারত, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নানা উৎসবে বাজিয়েছেন। মুম্বইয়ের এনসিপিএ-তে আদি-অনন্ত উৎসবে বাজিয়েছেন উস্তাদ জাকির হুসেনের সঙ্গে, কালা ঘোড়ায় উস্তাদ তৌফিক কুরেশির সঙ্গে, এ ছাড়া উস্তাদ ফজল কুরেশি, বিদুষী সুনন্দা শর্মা, উস্তাদ শফকত আলি খান, পণ্ডিত যোগেশ সামসি, উস্তাদ আকরাম খান এবং পণ্ডিত সঞ্জু সাহাইয়ের সঙ্গে।
সতবিন্দর পাল সিং কলাসুধার মঞ্চশিল্পীদের একজন। এই প্ল্যাটফর্মে তাঁর রেকর্ডিং ও অনুষ্ঠানের অডিও-ভিডিও নথির মধ্য দিয়ে শ্রোতারা শিখ সারেঙ্গি পরম্পরা ও তার জীবন্ত বংশধারাকে কাছ থেকে জানতে পারেন।