আজরাড়া ঘরানা (Ajrada বানানেও লেখা হয়) তবলা বাদনের একটি ঘরানা। ১৮ শতকের শেষে বা ১৯ শতকের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার গ্রাম আজরাড়ায় এর উদ্ভব, আর এই গ্রাম থেকেই ঘরানার নাম। বেশিরভাগ লেখক যে ছয়টি তবলা ঘরানাকে স্বীকার করেন, আজরাড়া তাদের একটি; বাকিগুলি দিল্লি, লখনউ, ফররুখাবাদ, বেনারস ও পাঞ্জাব।

বেশিরভাগ বিবরণ এই ঘরানার উৎস খোঁজে দুই ভাই, কাল্লু খান ও মিরু খানের কাছে; মিরুর নাম Meeru বানানেও পাওয়া যায়। দুই ভাই দিল্লিতে সিতাব খানের কাছে শেখেন এবং সেই উপাদান আজরাড়ায় নিয়ে আসেন, তাই ঘরানাটি দিল্লি ঘরানার একটি শাখা। দিল্লি ঘরানার ১৮ শতকের প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার খানের সঙ্গে সিতাব খানের সম্পর্ক নিয়ে সূত্রগুলি একমত নয়। অক্সফোর্ড রেফারেন্স সিতাব খানকে পুত্র বুগরা খানের সূত্রে সিদ্ধার খানের নাতি বলে, আর স্বরগঙ্গা মিউজিক ফাউন্ডেশন তাঁকে সেই পুত্রের শিষ্য বলে উল্লেখ করে।

আজরাড়ার বাদকেরা দিল্লির কৌশল বজায় রাখেন এবং তার সঙ্গে যোগ করেন অনামিকা আঙুল। দিল্লির মতো এই ঘরানাও বন্ধ বাজ, অর্থাৎ চাপা ধরনের বাজনার পথে চলে, যেখানে বোলের অনুরণন কম। এখানে বাঁয়া (বাঁ হাতের গম্ভীর স্বরের ড্রাম) দিল্লির চেয়ে বড় ভূমিকা পায়। অনীশ প্রধান ঝুল-এর বর্ণনা দিয়েছেন, বোলের এক দোলায়িত চলন, যা বাঁয়ার ওপর কবজির চাপ বদলে তৈরি হয়। এই ঘরানার সবচেয়ে বড় পরিচিতি তার কায়দা, নির্দিষ্ট পালটা-সহ বাজানো বিষয়, যা চলে আড় লয়-এ, যেখানে প্রতি দুই মাত্রায় তিনটি বোল পড়ে, এবং তিস্র জাতি-তে, যার বাক্যগঠন তিন-তিনের গুচ্ছে। রেণু জোহরি আড় লয়ের কায়দাকে এই ঘরানার স্বাক্ষর-নকশা বলেছেন, যদিও এখন প্রতিটি তবলা ঘরানাই তা বাজায়।

হাবিবুদ্দিন খান ২০ শতকে আজরাড়ার সবচেয়ে পরিচিত শিল্পী। রবার্ট গটলিব ছয়টি তবলা ধারা নিয়ে তাঁর গবেষণায় এই ঘরানাকে উপস্থাপন করেছেন হাবিবুদ্দিন খানের পুরোনো টেপ দিয়ে, কারণ ১৯৭১ সালে, যখন গটলিব বাকি পাঁচ ধারার গুরুদের রেকর্ড করেন, তখন তিনি আর মঞ্চে বাজাতেন না। তাঁর পিতা শম্মু খান তাঁকে প্রথম তালিম দেন, আর তিনি দিল্লি-সহ অন্য ঘরানার গুরুদের কাছেও শেখেন। সুধীর কুমার সাক্সেনা মিরাটে তাঁর কাছে শিক্ষা নেন এবং বরোদার মহারাজা সয়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ বছর পড়ান। আজ হাশমত আলি খানের পুত্র উস্তাদ আকরাম খান এই ঘরানায় বাজান। তিনি প্রথম পাঠ নেন নিয়াজু খানের কাছে, আর শেখেন পরিবারে প্রপিতামহের প্রজন্মের মোহাম্মদ শফি খানের কাছেও।

প্রধান শিল্পীরা

  • কাল্লু খান ও মিরু খান, দুই ভাই এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ১৮ শতকের শেষ বা ১৯ শতকের গোড়া
  • হাবিবুদ্দিন খান, ১৮৯৯ থেকে ১৯৭২, ২০ শতকের প্রধান শিল্পী এবং গটলিবের গবেষণায় ঘরানার প্রতিনিধি
  • সুধীর কুমার সাক্সেনা, ১৯২৩ থেকে ২০০৭, হাবিবুদ্দিন খানের শিষ্য, যিনি বরোদায় তবলা শেখাতেন
  • নিয়াজু খান, গুরু, যিনি উস্তাদ আকরাম খানকে প্রথম পাঠ দেন
  • উস্তাদ আকরাম খান, বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী

সূত্র

  • Robert S. Gottlieb, Solo Tabla Drumming of North India (1998), The Major Traditions of North Indian Tabla Drumming (1977)-এর সম্প্রসারিত রূপ
  • Aneesh Pradhan, হাবিবুদ্দিন খান ও আজরাড়া ঘরানা নিয়ে প্রবন্ধ, Scroll.in (2016)
  • Renu Johri, Gharanas of Tabla and Its Signature Patterns, Sangeet Galaxy (2014)
  • Sudhir Kumar Saxena, The Art of Tabla Rhythm, Sangeet Natak Akademi এবং D.K. Printworld (2018 সংস্করণ)
  • Oxford Reference, Sitab Khan এবং Habibuddin Khan বিষয়ক ভুক্তি (তারিখ নেই)
  • Maharaja Sayajirao University of Baroda, আজরাড়া ও ফররুখাবাদ তবলা ঘরানার তুলনামূলক পিএইচডি গবেষণাপত্র (তারিখ নেই)