রায়গড় ঘরানা কথক নৃত্যের একটি ঘরানা, যা আজকের ছত্তিশগড়ের দেশীয় রাজ্য রায়গড়ের দরবারে, রাজ্যের শেষ শাসক রাজা চক্রধর সিংয়ের আমলে রূপ পায়। কথক শিল্পীদের নিয়ে এম. নাগভূষণ শর্মার পর্যালোচনা একে জয়পুর, লখনউ ও বেনারসের সঙ্গে কথকের চারটি ঘরানার মধ্যে গণ্য করে, এবং বলে যে এটি রাজার আমলে প্রাধান্য পায়, যে আমলের সময় তিনি ধরেন ১৯০৪ থেকে ১৯৪৭। দুটি সংবাদ-প্রতিবেদন, ২০০৩ সালে নৃত্য-পোর্টাল নর্তকী-র এবং ২০২৪ সালে আইএএনএস-এর, রাজাকে এর প্রতিষ্ঠাতা বলে, যে শব্দ শর্মা ব্যবহার করেন না। রায়গড় জেলা প্রশাসন তাঁকে সেই পৃষ্ঠপোষক বলে, যাঁর আমলে রায়গড় শিল্পকলার কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
চক্রধর সিং কথক নাচতেন এবং তবলা ও পাখোয়াজ বাজাতেন। তিনি জয়পুর, লখনউ ও বেনারস ধারার গুরুদের দরবারি নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক হিসেবে রায়গড়ে নিয়ে আসেন, তাঁদের মধ্যে জয়লাল, অচ্ছন মহারাজ, লচ্ছু মহারাজ ও নারায়ণ প্রসাদ। নর্তকী পোর্টাল এর ফলে গড়ে ওঠা শৈলীকে বর্ণনা করে জয়পুর ও লখনউয়ের সংশ্লেষ হিসেবে, এবং মূল ধারা হিসেবে কেবল এই দুটিরই নাম করে। রাজা নৃত্য ও তাল বিষয়ে কয়েকটি গ্রন্থ লেখেন, তার মধ্যে নর্তন সর্বস্বম্ ও তাল তোয় নিধি, যে শিরোনামগুলির বানান সূত্রভেদে আলাদা। শর্মার বিবরণে দরবারি নৃত্যশিল্পীরা এই গ্রন্থগুলির নির্দেশিত রীতিতে নাচতেন, রাজার নতুন বোল, অর্থাৎ নৃত্যের মুখে বলা অক্ষর, এবং তাঁর চক্করদার পরন, তিনবার ফিরে আসা সমাপ্তি-বাক্যাংশ-সহ ঢোলের বোলে গড়া রচনা, ব্যবহার করে। তাঁরা রাজার নির্দিষ্ট করা পরিবেশনা-ক্রম মেনে চলতেন, সূচনার মঙ্গলাচরণ (বন্দনা) থেকে শেষের পরন ও চক্করদার পর্যন্ত।
শর্মা লিখেছেন, দরবারে কিছু বালক আসেন, যাঁদের কয়েকজনের পটভূমি ছিল গম্মত-এর মতো ছত্তিশগড়ি লোকনৃত্যে, এবং তাঁরা সেখানে কথক শেখেন। শর্মা কার্তিক রাম ও কল্যাণ দাস মহন্তকে ঘরানার দুই বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী বলেন এবং তাঁদের পাশাপাশি ফিরতু দাস ও বর্মন লালের পরিচিতিও দেন। কার্তিক রাম জয়লাল, মোহনলাল, অচ্ছন মহারাজ ও শম্ভু মহারাজের কাছে শেখেন এবং ১৯৩৬ সালে এলাহাবাদ সংগীত সম্মেলনে স্বর্ণপদক জেতেন। তিনি ও ফিরতু দাস একসঙ্গে জয়লালের কাছে শেখেন এবং জুটি বেঁধে নাচতেন। বর্মন লাল লচ্ছু মহারাজের কাছে লাস্য, অর্থাৎ লালিত্যময় ধারা, এবং অভিনয় (ভাবপ্রকাশ) শেখেন, আর শর্মা তাঁকে লখনউ ঘরানার দুর্লভ প্রথাগত ভাবের (প্রকাশিত মনোভাব) ভাণ্ডার বলেন।
কার্তিক রামের পুত্র রামলাল বরেঠ দরবারে তাঁর পিতা, রাজা ও জয়লালের কাছে শেখেন। তিনি রায়গড় শৈলীর জন্য ২০২৪ সালে পদ্মশ্রী পান, আর তাঁর পুরস্কার-প্রশস্তি রায়গড়কে কথকের ঘরানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব দেয় তাঁর শিক্ষাদানকে।
প্রধান শিল্পীরা
- চক্রধর সিং, রায়গড়ের রাজা, সংবাদ-প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠাতা এবং জেলা প্রশাসনের মতে পৃষ্ঠপোষক
- জয়লাল, রায়গড় দরবারে জয়পুর ধারার গুরু
- অচ্ছন মহারাজ, লখনউ ধারার গুরু এবং রায়গড়ের দরবারি নৃত্যশিল্পী
- কার্তিক রাম, দরবারে তালিমপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী, জন্ম ১৯১০
- ফিরতু দাস, দরবারি নৃত্যশিল্পী এবং কার্তিক রামের জুটি-সঙ্গী
- কল্যাণ দাস মহন্ত, দরবারি নৃত্যশিল্পী, পরে নাগপুরে শিক্ষক
- বর্মন লাল, দরবারি নৃত্যশিল্পী এবং অভিনয় বিশেষজ্ঞ, জন্ম ১৯১৬
- রামলাল বরেঠ, কার্তিক রামের পুত্র ও শিষ্য, পদ্মশ্রী ২০২৪
সূত্র
- M. Nagabhushana Sarma, Major Exponents of Kathak from the Early Times to Mid-20th C.: An Overview
- Padma Awards, Government of India, রামলাল বরেঠের পুরস্কার-প্রশস্তি (2024)
- Narthaki, Information Snippets (January 2003)
- IANS, রায়গড় ঘরানা নিয়ে ইয়াসমিন সিংয়ের দুটি বই বিষয়ক প্রতিবেদন (2024)
- District Administration Raigarh, Chakradhar Samaroh (2024 এবং 2026 সালের অনুষ্ঠানসূচি), History এবং Culture & Heritage পাতা